Did Shri Krishna broke his vow:
---------------------------------------------------
---------------------------------------------------
মহাভারত যুদ্ধের আগে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কথা দিয়েছিলেন যে তিনি যুদ্ধে অস্ত্র তুলবেননা। কিন্তু কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পিতামহ ভীষ্মের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ কি নিজের করা সেই প্রতীজ্ঞা ভেঙে ফেলেছিলেন? উত্তর হল, না।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরুর আগে যখন অর্জুন আর দূর্যোধন দুজনেই সাহায্য চাইতে শ্রীকৃষ্ণের কাছে গেলেন তখন শ্রীকৃষ্ণ তাদের কাছে সাহায্যের দুটো options রাখলেন। ১. শ্রীকৃষ্ণের অপরাজেয় নারায়নী সেনা। ২. একা শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি কোন অস্ত্র তুলবেননা।
দুষ্ট দূর্যোধন ভাবলেন, বিনা অস্ত্রে যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ একা এমনকিই বা করতে পারবেন? তার থেকে সশস্ত্র নারায়নী সেনা নেওয়াটাই 'বুদ্ধিমানের কাজ' হবে। যেমন ভাবা তেমনিই কাজ। তিনি নারায়নী সেনাই গ্রহন করলেন। অপরদিকে কৃষ্ণভক্ত অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে নিজের সারথী ও পথ প্রদর্শক হিসাবে চাইলেন।
---------------------------------------------------------------------
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সেদিন নবম দিন। আগের রাতেই ভীষ্ম পিতামহ দূর্যোধনকে কথা দিয়েছেন পরদিন যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি হয় অর্জুন তথা পান্ডবদের বধ করবেন নাহয় যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র না ধরার শ্রীকৃষ্ণের সংকল্পটিকে ভেঙে দেবেন। নবম দিনে মহামহিম ভীষ্ম রুদ্ররূপ ধরলেন। তাঁর আক্রমণে পান্ডবপক্ষ সেদিন 'ছয়-ছত্রখান!' ভীষ্মের তীরের আঘাতে অর্জুনের যুদ্ধ কবচ ছিঁড়ে গেছে, শরীরে ক্ষতও হয়েছে প্রচুর! বাকি পান্ডবদেরও একই অবস্থা। কিন্তু তবুও অর্জুন বা বাকি পান্ডবেরা তাঁদের শ্রদ্ধেয় পিতামহের বিরুদ্ধে সেভাবে লড়ছেননা যেভাবে তাঁদের লড়া উচিত। ভীষ্মের এইরকম ধ্বংশলীলা দেখেও, তাঁর বাণে আঘাত প্রাপ্ত হয়েও অর্জুন যেন লড়তে চাইছেননা। আসলে যেই পিতামহর কোলে-পিঠে তাঁরা ছোট থেকে বড় হয়েছে তাঁর উপরে আক্রমণ করতে পান্ডবদের বাধছিল। যার ফলে অর্জুন তথা পান্ডবদের এই half hearted লড়াই।
সেঈসময় অর্জুনের উপরে শ্রীকৃষ্ণ ভীষণ রেগে গেলেন। তাঁর এতকরে বোঝানো সত্বেও অর্জুন এখনো নশ্বর শরীরের নশ্বর সম্পর্ককে ভোলাতে পারছেননা। যার ফলে পিতামহর শরীরে আঘাত করার ব্যাপারটা সে মেনে নিতে পারছেনা। অথচ পিতামহর নশ্বর শরীর নিয়ে সামনে যিনি যুদ্ধ করছেন তিনি অবশ্যই অর্জুনের শত্রু কারণ সে অধর্মের পক্ষে লড়ছেন।...এভাবে চলতে দিতে থাকলে হয়ত ধর্মের উপর অধর্মেরই জয় হবে অার অর্জুনের হাত দিয়ে ধর্ম স্থাপন করার শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাও পূরণ হবেনা। তিনি অর্জুনকে ভর্তসনা করে বললেন সে যদি ভীষ্মকে আহত করতে না পারে তাহলে তিনি নিজেই তা করবেন।
এই বলে ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ মাটিতে নেমে পড়লেন ও সামনেই একটি ভাঙা রথের চাকা দেখে সেটাই তুলে প্রচন্ড গতিতে ভীষ্মর দিকে ছুটে গেলেন (যদিও শ্রীবিষ্ণুর পূর্ণাবতার রূপে গণ্য শ্রীকৃষ্ণ অস্ত্র হিসাবে generally সুদর্শন চক্র ব্যবহার করেন, তবুও এখানে তা করলেননা কারণ technically, রথের চাকা সেরকম কোন অস্ত্র না যা দিয়ে যুদ্ধ করা যায়। আর তিনিতো যুদ্ধক্ষেত্রে কোনপ্রকার 'অস্ত্র' ধারণ না করার প্রতীজ্ঞা নিয়েছিলেন।); তাঁর পায়ের শব্দে মাটি কেঁপে উঠল। শ্রীকৃষ্ণকে ওইভাবে ভীষ্মের রথের দিকে যেতে দেখে অর্জুনও তাঁর পিছনে ছুটলেন। ভীষ্ম কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে তাঁর রথের দিকে আসতে দেখে নিজের সমস্ত অস্ত্র ফেলে দিয়ে জোড়হাত করে দাঁড়িয়ে বললেন, 'আমাকে মারার জন্য আপনি যখন অস্ত্র তুলে নিয়েছেন তখন নিশ্চই আমার তরফ থেকে কোনো বড়মাপের ভুল হয়েছে।' শ্রীকৃষ্ণ জানালেন ভুলতো তাঁর হয়েইছে। সব সত্যি জানার পরেও কৌরবদের হয়ে অধর্মের পক্ষে লড়াই করাটাই তাঁর ভুল, ধর্মের জয়ের পথে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন-এটাও কি কম বড় ভুল? কম বড় অপরাধ? এই অপরাধের শাস্তিতো তাঁকে পেতেই হবে; স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণই তাঁকে শাস্তি দেবেন। পিতামহ ভীষ্ম আবার তাঁর হাত জোড় করে বললেন, শ্রীকৃষ্ণের হাতে তাঁর পঞ্চত্ব প্রাপ্তি হওয়াটা পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি এই মৃত্যূবরণ করতে প্রস্তুত।
শ্রীকৃষ্ণ আর দু-এক পা এগোতেই পিছন থেকে অর্জুন ছুটে এসে তাঁর পা জড়িয়ে ধরে তাঁকে বলতে লাগলেন, 'হে কেশব, আমি এবার থেকে মন দিয়ে যুদ্ধ করব। পিতামহকেও আমিই বধ করব। আপনি আমার জন্য নিজের প্রতিশ্রুতি ভাঙবেননা দয়া করে।' অর্জুনের অনেক চেষ্টার পর শ্রীকৃষ্ণ ক্ষান্ত দিয়ে অর্জুনের সাথে নিজেদের রথে ফিরে এলেন। ভীষ্মেরও আর শ্রীকৃষ্ণের হাতে মৃত্যুপ্রাপ্ত হওয়ার গৌরব সেযাত্রায় পাওয়া হলনা।
শ্রীকৃষ্ণ এইভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে না নেওয়ার নিজের প্রতীজ্ঞাও ভাঙলেননা, একই সাথে হাতে রথের চাকা রূপে 'প্রতীকী' অস্ত্র তুলে নিয়ে দূর্যোধনকে দেওয়া তাঁর আরেক ভক্ত ভীষ্মের প্রতিজ্ঞাটিও রক্ষা করেছিলেন। আসলে প্রকৃত ভক্তের খুশির জন্য স্বয়ং ভগবানও নিজের প্রতীজ্ঞা থেকে ভক্তের প্রতীজ্ঞাকেই বেশী দাম দিয়ে থাকেন। আর এ কথাতো সর্বজনবীদিত যে ভগবানের 'পূর্ণাবতার' শ্রীকৃষ্ণ সবসময়ই ভক্তবৎসল।
---------------------------------------------------
---------------------------------------------------
মহাভারত যুদ্ধের আগে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কথা দিয়েছিলেন যে তিনি যুদ্ধে অস্ত্র তুলবেননা। কিন্তু কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পিতামহ ভীষ্মের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ কি নিজের করা সেই প্রতীজ্ঞা ভেঙে ফেলেছিলেন? উত্তর হল, না।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরুর আগে যখন অর্জুন আর দূর্যোধন দুজনেই সাহায্য চাইতে শ্রীকৃষ্ণের কাছে গেলেন তখন শ্রীকৃষ্ণ তাদের কাছে সাহায্যের দুটো options রাখলেন। ১. শ্রীকৃষ্ণের অপরাজেয় নারায়নী সেনা। ২. একা শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি কোন অস্ত্র তুলবেননা।
দুষ্ট দূর্যোধন ভাবলেন, বিনা অস্ত্রে যুদ্ধক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ একা এমনকিই বা করতে পারবেন? তার থেকে সশস্ত্র নারায়নী সেনা নেওয়াটাই 'বুদ্ধিমানের কাজ' হবে। যেমন ভাবা তেমনিই কাজ। তিনি নারায়নী সেনাই গ্রহন করলেন। অপরদিকে কৃষ্ণভক্ত অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে নিজের সারথী ও পথ প্রদর্শক হিসাবে চাইলেন।
---------------------------------------------------------------------
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সেদিন নবম দিন। আগের রাতেই ভীষ্ম পিতামহ দূর্যোধনকে কথা দিয়েছেন পরদিন যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি হয় অর্জুন তথা পান্ডবদের বধ করবেন নাহয় যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র না ধরার শ্রীকৃষ্ণের সংকল্পটিকে ভেঙে দেবেন। নবম দিনে মহামহিম ভীষ্ম রুদ্ররূপ ধরলেন। তাঁর আক্রমণে পান্ডবপক্ষ সেদিন 'ছয়-ছত্রখান!' ভীষ্মের তীরের আঘাতে অর্জুনের যুদ্ধ কবচ ছিঁড়ে গেছে, শরীরে ক্ষতও হয়েছে প্রচুর! বাকি পান্ডবদেরও একই অবস্থা। কিন্তু তবুও অর্জুন বা বাকি পান্ডবেরা তাঁদের শ্রদ্ধেয় পিতামহের বিরুদ্ধে সেভাবে লড়ছেননা যেভাবে তাঁদের লড়া উচিত। ভীষ্মের এইরকম ধ্বংশলীলা দেখেও, তাঁর বাণে আঘাত প্রাপ্ত হয়েও অর্জুন যেন লড়তে চাইছেননা। আসলে যেই পিতামহর কোলে-পিঠে তাঁরা ছোট থেকে বড় হয়েছে তাঁর উপরে আক্রমণ করতে পান্ডবদের বাধছিল। যার ফলে অর্জুন তথা পান্ডবদের এই half hearted লড়াই।
সেঈসময় অর্জুনের উপরে শ্রীকৃষ্ণ ভীষণ রেগে গেলেন। তাঁর এতকরে বোঝানো সত্বেও অর্জুন এখনো নশ্বর শরীরের নশ্বর সম্পর্ককে ভোলাতে পারছেননা। যার ফলে পিতামহর শরীরে আঘাত করার ব্যাপারটা সে মেনে নিতে পারছেনা। অথচ পিতামহর নশ্বর শরীর নিয়ে সামনে যিনি যুদ্ধ করছেন তিনি অবশ্যই অর্জুনের শত্রু কারণ সে অধর্মের পক্ষে লড়ছেন।...এভাবে চলতে দিতে থাকলে হয়ত ধর্মের উপর অধর্মেরই জয় হবে অার অর্জুনের হাত দিয়ে ধর্ম স্থাপন করার শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাও পূরণ হবেনা। তিনি অর্জুনকে ভর্তসনা করে বললেন সে যদি ভীষ্মকে আহত করতে না পারে তাহলে তিনি নিজেই তা করবেন।
এই বলে ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ মাটিতে নেমে পড়লেন ও সামনেই একটি ভাঙা রথের চাকা দেখে সেটাই তুলে প্রচন্ড গতিতে ভীষ্মর দিকে ছুটে গেলেন (যদিও শ্রীবিষ্ণুর পূর্ণাবতার রূপে গণ্য শ্রীকৃষ্ণ অস্ত্র হিসাবে generally সুদর্শন চক্র ব্যবহার করেন, তবুও এখানে তা করলেননা কারণ technically, রথের চাকা সেরকম কোন অস্ত্র না যা দিয়ে যুদ্ধ করা যায়। আর তিনিতো যুদ্ধক্ষেত্রে কোনপ্রকার 'অস্ত্র' ধারণ না করার প্রতীজ্ঞা নিয়েছিলেন।); তাঁর পায়ের শব্দে মাটি কেঁপে উঠল। শ্রীকৃষ্ণকে ওইভাবে ভীষ্মের রথের দিকে যেতে দেখে অর্জুনও তাঁর পিছনে ছুটলেন। ভীষ্ম কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে তাঁর রথের দিকে আসতে দেখে নিজের সমস্ত অস্ত্র ফেলে দিয়ে জোড়হাত করে দাঁড়িয়ে বললেন, 'আমাকে মারার জন্য আপনি যখন অস্ত্র তুলে নিয়েছেন তখন নিশ্চই আমার তরফ থেকে কোনো বড়মাপের ভুল হয়েছে।' শ্রীকৃষ্ণ জানালেন ভুলতো তাঁর হয়েইছে। সব সত্যি জানার পরেও কৌরবদের হয়ে অধর্মের পক্ষে লড়াই করাটাই তাঁর ভুল, ধর্মের জয়ের পথে তিনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন-এটাও কি কম বড় ভুল? কম বড় অপরাধ? এই অপরাধের শাস্তিতো তাঁকে পেতেই হবে; স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণই তাঁকে শাস্তি দেবেন। পিতামহ ভীষ্ম আবার তাঁর হাত জোড় করে বললেন, শ্রীকৃষ্ণের হাতে তাঁর পঞ্চত্ব প্রাপ্তি হওয়াটা পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি এই মৃত্যূবরণ করতে প্রস্তুত।
শ্রীকৃষ্ণ আর দু-এক পা এগোতেই পিছন থেকে অর্জুন ছুটে এসে তাঁর পা জড়িয়ে ধরে তাঁকে বলতে লাগলেন, 'হে কেশব, আমি এবার থেকে মন দিয়ে যুদ্ধ করব। পিতামহকেও আমিই বধ করব। আপনি আমার জন্য নিজের প্রতিশ্রুতি ভাঙবেননা দয়া করে।' অর্জুনের অনেক চেষ্টার পর শ্রীকৃষ্ণ ক্ষান্ত দিয়ে অর্জুনের সাথে নিজেদের রথে ফিরে এলেন। ভীষ্মেরও আর শ্রীকৃষ্ণের হাতে মৃত্যুপ্রাপ্ত হওয়ার গৌরব সেযাত্রায় পাওয়া হলনা।
শ্রীকৃষ্ণ এইভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র হাতে না নেওয়ার নিজের প্রতীজ্ঞাও ভাঙলেননা, একই সাথে হাতে রথের চাকা রূপে 'প্রতীকী' অস্ত্র তুলে নিয়ে দূর্যোধনকে দেওয়া তাঁর আরেক ভক্ত ভীষ্মের প্রতিজ্ঞাটিও রক্ষা করেছিলেন। আসলে প্রকৃত ভক্তের খুশির জন্য স্বয়ং ভগবানও নিজের প্রতীজ্ঞা থেকে ভক্তের প্রতীজ্ঞাকেই বেশী দাম দিয়ে থাকেন। আর এ কথাতো সর্বজনবীদিত যে ভগবানের 'পূর্ণাবতার' শ্রীকৃষ্ণ সবসময়ই ভক্তবৎসল।