--------------------------------------------
বিশ্বকাপ ফুটবলের মত রিমার্কেবল ইভেন্টে ভারত খেলেনা বা খেলার সুযোগ পায়না বলে আমরা, ভারতীয়দের একাংশ, বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে তেমন ইন্টারেস্টেড হতে পারিনা, ; বাকি যারা উত্তেজিত হই তারা কেউ কেউ ব্রাজিল, কেউ কেউ আর্জেন্টিনা, কেউবা ইটালি, জার্মানি এইসব বাঘা বাঘা দলের সমর্থনে গলা ফাটিয়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাই আর আক্ষেপ করে বলি "আহা, অলিম্পিকের পর 'গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' নামে ভূষিত হওয়া এই খেলাটায় যদি আমার দেশটাও খেলতে পারত তাহলে কত আনন্দই না হত!"
সালটা ১৯৫০। বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিদ্ধস্ত ইউরোপের বদলে যুদ্ধে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি হওয়া দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে বসল ৪র্থ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। বিশ্বযুদ্ধের কারণে এর আগে বিশ্বকাপ ফুটবলের টানা দু'টি এডিশান বাদ গেছে (১৯৩৮ সালের পর থেকে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলও অনুষ্ঠিত করা যায়নি অন্যান্য sporting event-এর মতই) সুতরাং বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় হারিয়ে যাওয়া জৌলুস ফিরিয়ে নিয়ে আসার গুরুদায়িত্ব এখন ব্রাজিলের কাঁধে। এই বিশ্বকাপের মূলপর্বে ভারতের খেলার সুযোগ পেয়েও শেষমেশ কোন রহস্যময় কারণে অংশগ্রহন না করার ঘটনাটা হয়ত সবারই জানা। সুযোগ পেয়েও ব্রাজিল সফর না করার কারণ হিসাবে AIFF (All India Football Federation)-এর পক্ষ থেকে কিছু যুক্তিও জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল; যদিও এইসব যুক্তির কোনটাই খুব সন্তোষজনক (satisfactory) ছিলনা।
এই পর্যন্ত পরে অনেকেরই মনে হতে পারে করোনা ভাইরাসের এই মর্মান্তিক অথচ রমরমে বাজারে আমি আবার ফুটবল নিয়ে আলোচনা করছি কেন? আসলে আমরা ভারতীয়রা স্বাধীনতার পাওয়ার পর থেকে নিজেদের অ্যাডভান্সমেন্টের ব্যাপারে কতটা ইররেসপন্সেবল হয়ে গেছি সেটা জানানোই আমার উদ্দেশ্য।
যাইহোক আলোচনায় ফিরি, যে কোন বছর বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য সারা পৃথিবী জুড়ে দেশগুলোকে নিয়ে প্রথমে qualifying round- এর খেলা হয়, এমনকি আগের বছরের বিজয়ী দলগুলোও এই কোয়ালিফাইং-এর হাত থেকে নিস্তার পায়না, তাদেরকেও কোয়ালিফাইং রাউন্ডের ম্যাচ গুলো খেলেই মূলপর্বের জন্য 'যোগ্যতা অর্জন' করতে হয়। এ কথা আমরা সবাই জানি। এই মুহুর্তে একটা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগের বাছাই পর্ব (qualifying round) গুলোতে যেমন ২০০টি দেশ অংশ নেয় ও ৮০০-র ওপরে কোয়ালিফাইং ম্যাচ হয় (২০১০ সাল থেকে এই সংখ্যাটা ৮৫০), ১৯৫০ বিশ্বকাপের আগে বাছাই পর্বে কিন্তু এই সংখ্যাটা এত ছিলনা। মাত্র ৩৩টি দেশ সেবার বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বগুলিতে অংশ নিয়েছিল; হয়ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের 'চরম ধ্বংসলীলাই' এর জন্য দায়ী ছিল। তখন কোয়ালিফাইং রাউন্ড গুলোর জন্য FIFA (Federation of International Football Association)-র নিয়মকানুন আজকের মতো এত elaborate ও analyzed ছিলনা। যেমন, continental qualifiers -এর ব্যাপারটা তখনও ছিলনা; সফরগুলোর কারণে প্লেয়ারদের যাতে অতিরিক্ত ক্লান্তি না আসে সেইজন্য ফিফা তখন দেশ গুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের ব্যাপারটাকে বেশী গুরুত্ব দিত কারণ ঐ সময়ে বিমানযাত্রা আজকের মত এত available ছিলনা, দূরের কোন দেশে যাতায়াত করতে গেলে জল-জাহাজকেই বেশী প্রেফার করা হত। ১৯৫০ বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ভারত তাই মনোনীত হল মায়ানমার (তখনকার বার্মা) ও ফিলিপিন্সের সাথে একই গ্রুপে। গ্রুপ ১০। কিন্তু রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে বার্মা ও ফিলিপিন্স নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়াতে কোয়ালিফাইং রাউন্ডের গ্রুপ ১০ থেকে ভারত কোন ম্যাচ না খেলেই অনেকটা কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মত সরাসরি ১৯৫ বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়ে যায়। যদিও দুঃখের বিষয় এই যে, এরকম একটা golden opportunity পাবা পরেও ভারত সেই বিশ্বকাপে দল পাঠালনা। All India Football Federation (AIFF)-এর তরফ থেকে কারণ দেখানো হ "disagreements over team selection and insufficient practice time"; এই ছিল নিজেদের দেশের প্রতি-দলের প্রতি AIFF-এর দায়িত্ব!!
একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, ১৯৫০ বিশ্বকাপের অফিশিয়া ফিক্সচার রিলিজ হয়ে যাবার পরে ভারত কিন্তু ঐ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম উইথড্র করেছিল। সেই বিশ্বকাপে ভারতের খেলতে হত পুল থ্রি তে প্যারাগুয়ে, সুইডেন ও ইটালির বিরুদ্ধে প্যারাগুয়ে কিন্তু তখন আজকের মত এত শক্তিশালী দল ছিলনা। ইটালিও সেই বিশ্বকাপে স গ্রেডের একটা দল পাঠিয়েছিল কারণ তাদের প্রথম একাদশের নিয়মিত আটজন খেলোয়াড় ১৯৪৯ সালে একটি প্লেন দূর্ঘটনা নিহত হয়েছিল। তাছাড়া জলপথে ব্রাজিল আসার কারণে ইটালিয়ান খেলোয়াররা দৈহিক ভাবেও অবসন্ন ছিল। থাকার মধ্যে শুধু সুইডেন দলটাই যা একটু কঠিন ছিল তৎকালীন শক্তিসমৃদ্ধ ভারতীয় ফুটবল দলের কাছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দেখা যায়, বিশ্বকাপে খেললে ভারত সেবার প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকে দ্বিতীয় রাউন্ডেও উঠে আসতে পারত। কারণ সেইসময় ভারতীয় ফুটবল দল যথেষ্ট শক্তপোক্ত ছিল, আজকের মত এতটা হেলাফলার ছিলনা; ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ভারতীয় দলের দূর্দান্ত পারফরম্যান্সই এর প্রমাণ আর ব্রাজিলে ভারতের সেইদলটাই যেত।
ব্রাজিল বিশ্বকাপের কর্মকর্তারা ১৯৫০ সালে তাদের দেশের মাটিতে একটি আদর্শ বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাচ্ছিলেন হয়ত সেইজন্যই চেয়েছিলেন যাতে মহাত্মা গান্ধী ও জহরলাল নেহেরুর দেশ এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করুক। উপরন্তু ভারতীয় দলের খেলায় তখ ফিজিক্যাল ফুটবলের নাম-গন্ধ ছিলনা, ছিল স্কিলফুল ফুটবল। স্কিলফুল ফুটবল সবসময়ে সবাইকে আকৃষ্ট করে আর ব্রাজিল দেশটাতো বরাবরই স্কিলফুল ফুটবলের পুজারী। ব্রাজিল বিশ্বকাপের অর্গানাইজারস্ থেকে শুরু করে ব্রাজিলের আম জনতা সবাই তাই স্বাভাবিক ভাবেই চেয়েছিল ভারত যেন খেলে তাই প্রথমবা AIFF-এর না করা সত্বেও ১৯৫০-এর মার্চ-এপ্রিল মাসে ব্রাজিল থেকে কর্মকর্তারা আবার AIFF-এর সাথে যোগাযোগ কর ও ভারতীয় দলটাকে বিশ্বকাপে পাঠাতে বলে, তারা এও বলে AIFF যদি ভারতীয় দলকে বিশ্বকাপে পাঠায় তাহলে ভারতীয় দলের ব্রাজিল যাতায়াতের যাবতীয় খরচের বেশিরভাগটাই তারা বহন করবে। প্রসঙ্গত বলে রাখি, ব্রাজিল কিন্তু পৃথিবীর ধনী দেশগুলোর গুনতিতে পরেনা। এরপরেও ভারত যখন আসতে রাজী হলনা তখন বাধ্য হয়েই চার দলের পুল থ্রি কে তিন দলে নামিয়ে বিশ্বকাপ খেলাতে বাধ্য হল FIFA।
১৯৫০ বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া সত্বেও ভারত কেন দল পাঠালনা তা নিয়ে কিন্তু AIFF কোনদিনই কোন clear-cut কারণ দেখায়নি। তৎকালীন ভারত সরকারও এ বিষয়ে ইতিবাচক ধারনাই পোষণ করত। এমনকি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুও বুঝতে পেরেছিলেন একটা জাতির উন্নতি ও আন্তর্জাতিক পরিচয় গঠন করতে খেলাধুলার কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া ভারতের কাছে এই দুটোর খুব দরকারও ছিল। যদিও AIFF-এর 'বদান্যতায়' এইরকম একটা ওয়ান্স ইন এ লাইফটাইম চান্স ভারত হারিয়ে ফেলেছিল।
এই ঘটনায় AIFF-এর দেখানো একাধিক কারণের মধ্যে থেকে যেই কারণটা সবচেয়ে বেশি ফুটেজ খেয়েছিল সেটা হল, FIFA-র নিয়মানুসারে সব খেলোয়ারদের বুট পড়ে খেলতে হবে। AIFF ভয় পেয়েছিল, বুট পড়ে খেলায় অনভ্যস্ত ভারতীয়রা হয়তো পেশাদার দল গুলোর কাছে বিশ্রী ভাবে হারতে পারে আর এতে ১৯৪৮ সালের অলিম্পিকে তাদের অর্জন করা সুনাম বিপদে পড়তে পারে। আরো একটা কারণ দেখিয়ে বলা হল ভারতীয় ফুটবলারেরা ৯০ মিনিটের খেলায় একদম অভ্যস্ত নয়। (এটা কিন্তু সত্যি; ১৯৭০ পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া লিগগুলি হকি খেলার মত ৭০ মিনিটের হত।) ৭০ মিনিট পর্যন্ত খেলে অভ্যস্ত ছেলেগুলি ৯০ মিনিট খেললে ক্লান্তির চোটে শেষমুহুর্তে গোল হজম করে বসতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে নিজেদের তৈরী করে নেওয়ার জন্য AIFF-এর কাছে একবছর সময় ছিল।
অনেকেই বলবেন সেইসময়ে ভারতের ব্রাজিলে দল না পাঠানোর আরেকটি কারণ হতে পারে অর্থাভাব। দেশে সবে স্বাধীনতা এসেছে, অর্থনীতিটাও চাঙ্গা হয়নি এখোনো এরই মধ্যে খেলোয়ারদের প্রপার ট্রেনিং, ফুডিং, ব্রাজিল যাতায়াতের খরচ প্রভৃতি বিশ্বকাপের জন্য এত খরচ করার মতো টাকা কোথা থেকে আসবে? -পারসোনালি আমি এই মতামতে বিশ্বাস করিনা। দেশে পর্যাপ্ত রেভেনিউ নেই মানলাম, কিন্তু ব্রাজিল থেকে যাতায়াতের ভাড়ার মেজর পোর্শানতো অফার করা হয়েইছিল আর বাকিটা FIFA-র থেকে জোগাড় করা যেতনা? Easily যেত যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী তাতে হস্তক্ষেপ করতেন। আর তাছাড়াও এর দুই বছর আগেই, অর্থাৎ স্বাধীনতার পরের বছরেই ইংল্যান্ডে গিয়ে ভারত অলিম্পিক খেলে এসেছিল, তখন ভারতীয় ফুটবল দল কোথা থেকে টাকা পেয়েছিল?
আরো একটা ব্যাপার আছে, বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৫০ সাল নাগাদ বিশ্বকাপ ফুটবল তার অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছিল। AIFF-ও বিশ্বকাপের থেকে অলিম্পিক ফুটবলকেই বেশী গুরুত্ব দিয়েছিল সেইসময়। তাই বিশ্বকাপের আবেদনে তেম সাড়া দেয়নি।
পেশাদারিত্ব ও অপেশাদারিত্বকেও একটা হাতিয়ার বানিয়েছি AIFF- যদি ভারতীয় ফুটবলারেরা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে ফেলে তাহলে তারা পেশাদার খেলোয়ার হিসাবে গণ্য হবে এবং অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে আর খেলার সুযোগ পাবেনা। কারণ ঐ সময়টাতে শুধু অপেশাদার খেলোয়ারদেরই অলিম্পকে খেলার অনুমতি ছিল।
ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন যেকোন দেশের আভ্যন্তরীন পরিকাঠামো, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক স্তরে সেইদেশের পরিচিতি বাড়াতে সাহায্য করে। একথা আজকে পৃথিবীর সব দেশ এককথায় স্বীকার করে।
স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে আমরা, ভারতীয়রা যেকো বিষয়ে পারদর্শীতা দেখানোর চাইতে অজুহাত দেখানোটাই বেশী পছন্দ করি। ১৯৫০ সালে AIFF এই ব্রাজিলের ইনভিটেশান অ্যাক্সেপ্ট না করে ঐ ন্যাকামোগুলো না করলে আজকে ব্রাজিল -ইটালি-জার্মানির মতো ভারতও হয়ত বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে একটা জায়গা দখল করে থাকত।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা FIFAও ১৯৫০ বিশ্বকাপ থেকে ভারতের 'last minute withdrawal '- এ প্রচন্ড বিরক্ত হয় ও ঠিক এরপরের বছর অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে AIFF-এর এন্ট্রি বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে একটা ঠাণ্ডা যুদ্ধ চলতে থাকে AIFF ও FIFA-র মধ্যে। এর অনেক পরে AIFF-এর জেনারেল সেক্রেটারি প্রয়াত অশোক ঘোষের বহু প্রচেষ্টার পর FIFA কিছুটা নরম হয় ও ১৯৮৪-৮৫ সাল থেকে বিশ্বকাপ ফুটবলে আবার AIFF-এর এন্ট্রি গ্রহন করে। সেইবার থেকে প্রতিবছরই ভারত বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলে আসলেও মূলপর্বের যোগ্যতা এখনো অর্জন করতে পারেনি।
সুযোগ পেয়েও বা খোদ আয়োজকদের থেকে আমন্ত্রণ পেয়েও সেই বিশ্বকাপে দল না নামানোর দাম ভারতীয় ফুটবল আজও চুকিয়ে যাচ্ছে। সুযোগের ফায়দা সবসময়ই ওঠানো উচিত; বিশেষকরে, কুড়িয়ে পাওয়া সুযোগের তো বটেই।
একটা ঘটনার কথা বলে লেখাটা শেষ করি, ১৯৯২ সালে ভারতের মতই একটা পড়ে পাওয়া সুযোগ পেয়েছিল ডেনমার্ক। তবে সেটা ছিল ইউরো কাপ। ইউরো কাপ গুলোতেও মূল পর্বের খেলা শুরুর আগে বাছাই পর্বের খেলা হয়। এছাড়াও ইউরো কাপ আর বিশ্বকাপের নিয়মে তফাৎ প্রায় নেই বললেই চলে। ইউরো কাপের বাছাই পর্বের ডি গ্রুপ থেকে প্রথমে যুগোশ্লাভিয়া দেশটি মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা পায় কিন্তু যুগোশ্লাভিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশটা শেষমেশ মূলপর্ব থেকে সরে আসে। তার বদলে সুযোগ পায় দ্বিতীয় স্থানে কোয়ালিফাইং রাউন্ড শেষ করা ডেনমার্ক। এই আচমকা পাওয়া সুযোগকে ডেনমার্ক সেবার দারুন ভাবে কাজে লাগিয়েছিল। শুধু মূলপর্বে অংশগ্রহন করেই থেমে না থেকে সব্বাইকে অবাক করে দিয়ে সেবারের ইউরো কাপের ফাইনাল ম্যাচে মহাশক্তিশালী জার্মানিকে ১-২ গোলে হারিয়ে ১৯৯২-এর ইউরোপ সেরাও হয়েছিল। -- রূপকথা মনে হচ্ছে? সুযোগের সদ্ব্যবহার করা একেই বলে। এখনও পর্যন্ত ভারত যেটা কোনদিন করতে পারেনি। এরপরেও ডেনমার্ক অনেক ইউরো কাপ ও বিশ্বকাপে নিজেদের সাড়া জাগানো অংশীদারি রেখেছে ও আশা করাই যায় যে আগামীতেও রাখবে। সারা বিশ্বে আজকে ডেনমার্কের পরিচিতি কিন্তু ফুটবল দিয়েই শুরু। ডেনমার্কের মতই বহু দেশেরও international identity ফুটবলের এইরকম major event গুলোতে অংশ নেওয়া থেকেই এসেছে।
-দেবাংশু গোস্বামী





