বাংলায় 'পরের ধনে পোদ্দারি' বলে একটা কথা আছে। নিজের মালিকানা বা অধিকার না থাকা সত্বেও কোন ব্যাক্তি যখন অন্যের কোন সম্পত্তির উপর জোর খাটায় তখন এই কথাটা ব্যবহার করা হয়। মহাভারতে বর্ণিত হস্তিনাপুর-কুরুক্ষেত্র এসব নিয়ে তথাকথিত কৌরব-পান্ডবদের বাড়াবাড়িটাও আমার কেন জানো 'পরের ধনে পোদ্দারি' বলেই মনে হয়! এরকম মনে হওয়াটা হঠাৎ করে আমার মাথায় আসেনি, এরকম মনে করার উপযুক্ত কারণ আছে বলেই এমনটা মনে হয়েছে; আর মজার কথা, সেই কারণটা মহাভারতেই বলা আছে। ব্যাপারটা একটু বেশী ইজি বলেই হয়ত এতদিন সেভাবে এটা আমাদের চোখে পড়েনি বা হয়ত পাছে মহাভারতের অমর্যাদা হয়ে যায় সেই ভয়ে কেউ কেউ ব্যাপারটা বোঝা সত্বেও এ নিয়ে কোন আলোচনা করেনি। এর মধ্যে দ্বিতীয় কারণটাই বেশী অ্যাক্সেপ্টেবল বলে আমার মনে হয়, কারণ যতজন মানুষ আজ পর্যন্ত মহাভারত পড়েছেন তাদের মধ্যে জ্ঞানী ও বিদগ্ধ মানুষও নিশ্চয়ই আছেন; আর তাঁরা এই ব্যাপারটি বুঝবেন না এটা আমার ঠিক বিশ্বাস হয়না।
তবে কিছু বলার আগে আমি দু-একটা কথা বলে নিতে চাই, মহাভারত ও তার চরিত্রগুলোকে এবং তাদের রচয়িতা হিসেবে ব্যাসদেবকে আমি খুবই শ্রদ্ধা করি এবং এই লেখার মাধ্যমে কোনভাবেই তাদের অসম্মান বা অনাদর করছি না। সেই যোগ্যতাই আমার নেই। আমার যেটুকু মনে হয়েছে আমি সেই কথাই লিখছি। এমনকি, আমার এই লেখার উদ্দেশ্য কোনমতেই নর বা নারী জাতিকে ছোট করা বা সমাজের বিভিন্ন নিয়ম-প্রথার বিরোধিতা করাও নয়।
ব্যাপারটাকে আর বেশী না ফেনিয়ে আমরা এক কাজ করি, মহারাজ শান্তনুর থেকে কুরু বংশের ফ্যামিলি ট্রি টা একবার দেখে নেই।-
মহাভারত বলেছে, শান্তনু ও গঙ্গার পুত্রের নাম দেবব্রত (দেবব্রত আজীবন ব্রহ্মচারী ছিলেন, বিয়ে-থা করেননি); শান্তনু ও সত্যবতীর দুই পুত্র চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য (এর মধ্যে চিত্রাঙ্গদ অল্প বয়সেই মারা যায়)। কাশীর দুই রাজকুমারী অম্বিকা আর অম্বালিকার সাথে বিচিত্রবীর্যের বিয়ে তো হয়েছিল কিন্ত কোন সন্তান জন্মাবার আগেই তিনিও যমলোকে পৌঁছে যান। আমাদের দেশে প্রাচীনকাল থেকেই যেটা হয়ে আসছে-'পিতার পরিচয়ই পুত্রের পরিচয়'- এর অনুসারে এখানে এটা বলা খুব ভুল হবেনা যে বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর সাথেসাথেই হস্তিনাপুরের রাজবংশও (কুরু বংশ) শেষ হয়ে গেছিল! তাহলে হস্তিনাপুর রাজবংশে বিচিত্রবীর্য পরবর্তী সময়ে যেই জেনারেশনগুলো এসেছিল, সায়েন্টিফিক্যালি তাদেরকে ঠিক 'কুরুবংশ জাত' বলা যাচ্ছেনা।
তাহলে ধৃতরাষ্ট্র বা পান্ডু এরা কারা? মহাভারত পড়ে আমরা জানতে পারি, বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর রাজমাতা সত্যবতীর ইচ্ছায় ব্যাসদেব স্বয়ং বিচিত্রবীর্যের দুই বিধবা পত্নী অম্বিকা ও অম্বালিকা এবং অম্বিকার প্রধান দাসী শূদ্রীকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনটি সন্তান প্রদান করেন। জন্ম নেয় যথাক্রমে, ধৃতরাষ্ট্র, পান্ডু ও বিদুর। অর্থাৎ ধৃতরাষ্ট্র বা পান্ডু কেউই কিন্তু বিচিত্রবীর্যের ঔরসজাত সন্তান (লেজিটিমেট চাইল্ড) নন। (তবে কি তারা ব্যাসদেবের ঔরসজাত?) এখানে খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্ন উঠতেই পারে, কিভাবে তাহলে তারা কুরু বংশধর হচ্ছেন? এক যদিনা তারা কুরুবংশের দুই কুলবধু হিসাবে পরিচয় পাওয়া অম্বিকা ও অম্বালিকার পরিচয় পেয়ে থাকেন। তবে আমরা জানি এই পৃথিবীতে, বিশেষত আমাদের দেশে বাবার পরিচয়েই ছেলে-মেয়েরা বড় হয়ে ওঠে, মায়ের পরিচয়ে নয়। কারণ বিয়ের পরে তার স্বামীর পরিচয়ই যেকোন মেয়ের পরিচয় হয়ে যায়।
'নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিচিত্রবীর্যের দুই রাণীর গর্ভে সন্তান প্রদান করলে সেই সন্তান পরবর্তীকালে বিচিত্রবীর্য পুত্র ও কুরু কুলজাত বলেই সমাজে খ্যাতিলাভ করবে'- ব্যাসদেবের অন্যান্য কথা বিশ্বাসযোগ্য হলেও এই কথাটা যাকে বলে, 'ইয়ে বাত কুছ হজম নহি হুই!' ভারতীয় সমাজবিধি অনুসারে নবজাতকদের বংশের পরিচয় সম্পূর্ণভাবে ডিপেন্ড করে জনকের পরিচয়ের উপর; আর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যেখানে আসল জনকের জায়ঘায় অন্য কোন 'জনক' 'প্রক্সি' দিয়ে থাকে সেখানে কিভাবে নবজাতকের বংশপরিচয় আসল জনককে দিয়ে ডিফাইন করা যায়, অনেক ভেবেও এর কোন কুলকিনারা পেলামনা। নিয়োগ প্রক্রিয়া সন্মন্ধে মহাভারতে যতটা জানা যায় তাতে করে তো মনেহয় এটা একধরনের সারোগেসি ছাড়া আর কিছুই না। অর্থাৎ একথা বলাও খুব ভুল হবেনা যে, ব্যাসদেব ধৃতরাষ্ট্র ও পান্ডুর সারোগেট ফাদার (বা এই ধরনেরই কিছু একটা) ছিলেন যার সাথে কুরু বংশের কোনরকম রক্তের সম্পর্ক ছিলনা। (এখানে বলে রাখি, ব্যাসদেব সত্যবতী ও মহামুনি পরাশরের ছেলে ছিলেন। সত্যবতীর কুমারী অবস্থার পুত্র।)..মহাভারতে তাই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধৃতরাষ্ট্র বা পান্ডু জন্মাবার পরেও সত্যবতীকে হস্তিনাপুরের 'দূর্ভাগ্য'-র কথা বলে কাঁদতে দেখা গেছিল। শুধুমাত্র ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধত্বই সত্যবতীর বলা সেই 'হস্তিনাপুরের দূর্ভাগ্য' হতে পারেনা কারণ ধৃতরাষ্ট্রকে হস্তিনাপুরের রাজা করতে না পারলেও রাজমাতা সত্যবতীর কাছে কিন্তু হস্তিনাপুরের (কুরু বংশের) রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী নিয়ে পান্ডুর রূপে একটা অপশন ছিলই। সত্যবতীর সেদিনের কান্নার কারণ গুলো হতে পারে-
১. বিচিত্রবীর্যের অকাল মৃত্যু।
২. আজীবন ব্রহ্মচর্য ব্রতর প্রতিজ্ঞায় বাঁধা থাকার জন্য সত্যবতী ও নিষাদ রাজের কথায় অম্বিকা ও অম্বালিকাকে বিয়ে করতে দেবব্রতর অস্বীকার করা।
৩. ফলে বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পরই কুরুবংশ লোপ পেয়ে যাওয়া।
৪. লোকসমাজের 'ভয়ে' তিন নবজাতকদের ব্যাসদেব পুত্র বলে পরিচয় দিতে না পারা।
৫. অম্বিকার গর্ভজাত ধৃতরাষ্ট্রের জন্মান্ধতা।
৬. সর্বোপরি, রাজমাতা হিসেবে হস্তিনাপুরের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা।
উপরে বলা ২ নম্বর কারণটা নিয়ে একটু ভাবলেই এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পরে একমাত্র দেবব্রতই পারতেন কুরু বংশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কিন্তু সত্যবতীর পিতার কাছে তিনি আজীবন ব্রহ্মচারী থাকার প্রতীজ্ঞা করে রাখার জন্য তা করেননি। (যদিও বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পরে সত্যবতীর পিতা দেবব্রতকে কথা ফিরিয়ে দিয়ে প্রতীজ্ঞাটি উইথড্র করে নিতে বলেছিল কিন্তু দেবব্রত তাতেও রাজী হননি।)
আবার, ভুল করে কিন্দ্যম ঋষিকে সস্ত্রীক হত্যা করে ফেলার অপরাধে পান্ডু ঋষির কাছ থেকে অভিশাপ পেয়েছিলেন যে পান্ডু যখনই নিজের স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠ হবেন ঠিক তখনই পান্ডু ও তার স্ত্রীর মৃত্যু ঘটবে।
ওদিকে কুমারী থাকাকালীন কুন্তী দূর্বাশা মুনির কাছ থেকে একটি আশীর্বাদ পেয়েছিল; আশীর্বাদটি ছিল, বিশেষ একটি মন্ত্র পাঠ করে কুন্তী যদি কোন দেবতাকে স্মরণ করে তাহলে সেই দেবতা কুন্তীকে দেখা দেবেন ও তাঁর প্রসাদ হিসেবে একটি পুত্র সন্তান কুন্তীকে দান করে যাবেন। পান্ডুর অভিশাপের ঘটনাটা কুন্তী যখন জানতে পারলেন তখন তিনি সন্তান লাভের জন্য দূর্বাশা মুনির কাছ থেকে পাওয়া এই আশীর্বাদটি কাজে লাগালেন ও এক এক করে ধর্মদেবতার থেকে যুধিষ্ঠির, পবন দেবতার থেকে ভীমসেন, স্বয়ং ইন্দ্রদেবের থেকে অর্জুন ও দুই অশ্বিনীকুমারের থেকে নকুল ও সহদেব নামের দুই জমজ ছেলেদের লাভ করলেন। যেই ছেলেরা পরবর্তীতে পান্ডুপুত্র পরিচয়ে খ্যাতিলাভ করল। কিন্তু মজার কথা, এই 'পান্ডুপুত্র'রা কেউই পান্ডুর ঔরসজাত তো নয়ই, এমনকি কুন্তী বা মাদ্রী কারোরই গর্ভজাতও নয় (এর বেশী আর ভাঙলামনা)! অর্থাৎ হস্তিনাপুরের কুরুবংশের সাথে এরা কোনভাবেই রিলেটেড নয়। এবারে হয়ত পান্ডুপুত্রদের জন্ম দেওয়ার জন্য উক্ত দেবতাদের সারোগেসি বা টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতি গুলোর চেয়েও উন্নত কোন পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করতে হয়েছিল।
একই কথা খাটে কৌরবদের বেলাতেও। তবে এবার প্রথমে ধৃতরাষ্ট্রের মারফত গান্ধারী গর্ভবতী হয়েছিল ; গান্ধারী তখন হস্তিনাপুরের মহারানি। মহারানি গর্ভবতী আর সেকারনে গোটা নগরীতে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একে একে দশ মাস, এক বছর, দুই বছর কেটে গেলেও ধৃতরাষ্ট্রের ঘরে কোন বাচ্চার কান্না শোনা গেলনা। দুই বছর পর গান্ধারী তার গর্ভ থেকে বড়সড় একটি মাংসপিন্ড প্রসব করল। সেই মুহুর্তে হস্তিনাপুরে আবার ব্যাসদেব এলেন ও গান্ধারীর প্রসব করা সেই মাংসপিন্ড একশ ভাগে ভাগ করে প্রত্যেকটা ভাগকে আলাদা আলাদা কলসীতে ভরে রাখলেন আর সেখান থেকে জন্ম নিল দূর্যোধন, দুঃশাষন, বিকর্ণ প্রভৃতি কৌরবেরা। কৌরবদের এই জন্মবৃত্তান্ত সত্যিই রহস্যজনক। এখানেও ব্যাসদেব হয়ত আবার সারোগেসির পথে হেঁটেছিলেন অথবা টেস্ট টিউব বেবি পদ্ধতিটির কোন জটিল ভার্সনের সাহায্য নিয়েছিলেন। এই দুইয়ের যেটাই তিনি করে থাকুননা কেন, সদ্য জন্ম নেওয়া কৌরবরাও যে ধৃতরাষ্ট্রের ঔরস জাত সন্তান ছিলনা এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়।
তাহলে যা দেখা গেল, ধৃতরাষ্ট্র ব পান্ডু বিচিত্রবীর্যর ঔরসজাত নয়, পান্ডবেরা পান্ডুর ঔরসজাত নয়, কৌরবরা ধৃতরাষ্ট্রের ঔরসজাত নয়; এমনকি হস্তিনাপুর-ইন্দ্রপ্রস্থ এসবের সঙ্গে এদের প্রত্যক্ষ কোন সম্পর্কও নেই; তবুও সারা মহাভারত জুড়ে এদের অ্যাক্টিভিটি কিন্তু হস্তিনাপুর-ইন্দ্রপ্রস্থ রাজ্য ওরিয়েন্টেড। মহাভারতের শেষ লগ্নে এরা হস্তিনাপুরের সিংহাসনের জন্য বা ইন্দ্রপ্রস্থের জমির জন্য ভয়াবহ এক মহাযুদ্ধ করতেও পিছুপা হয়নি। যদি এমনটা ধরে নেই যে, বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পরই কুরুবংশ শেষ হয়ে গিয়েছিল, তাহলে দেখা যাবে ধৃতরাষ্ট্র থেকে নিয়ে সহদেব পর্যন্ত এরা কেউই কুরুবংশের প্রতিনিধি ছিলনা আর তাই কুরুবংশ শাষিত কোন অঞ্চলেই এদের কোনপ্রকার অধিকার থাকারও কোন প্রশ্ন নেই! কিন্তু তাও এদেরকে আমরা সেইসব স্থানগুলোতে নিজেদের অধিকার মানতে দেখি মহাভারতে এবং শেষমেশ এইসব স্থানসমূহে নিজেদের অধিকারের দাবী নিয়ে কুরুক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মধ্যে যুদ্ধও করতে দেখি। এর জন্যই লেখাটার শুরুর দিকে 'পরের ধনে পোদ্দারি' কথাটার ব্যবহার করেছিলাম।
এটা তো দেখলাম একটা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে; এবার অন্য একটা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাপারটা দেখি। ধৃতরাষ্ট্র, পান্ডু, পঞ্চপান্ডব বা শত কৌরব- এদের কারো কারো জন্মের আগেই তাদের পিতা গত হয়েছেন আবার কারো কারো জন্মগ্রহনে তাদের পিতার কোন কার্যকারি ভূমিকা ছিলনা তা সত্বেও তারা তাদের পিতার বংশপরিচয়ে পরিচিত হচ্ছে। এখানে যদি ধরেও নেই এই পরিচয়টা আসছে তাদের মায়েদের পরিচয় থেকে (এ কথা বলার কারণ মহাভারতের একাধিক জায়গায় বিভিন্ন চরিত্রদের তাদের মায়ের পরিচয়ে ডাকা হয়েছে, যেমন কর্ণকে রাধেয়, যুধিষ্ঠির-ভীম-অর্জুনকে কুন্তীপুত্র, শ্রীকৃষ্ণকে দেবকী নন্দন ইত্যাদি)। তাহলে একথা স্বীকার করতেই হবে যে, সেই মহাভারতের যুগে নারীদের স্থান সত্যি সত্যিই সমাজে অনেক উঁচুতে ছিল; পুরুষদের সমান অধিকার নারীদেরও ছিল আবার ক্ষেত্রবিশেষে নারীদের অধিকার পুরুষদেরও উপরে ছিল। অর্থাৎ, সেই যুগে সমাজটা আজকের মত পুরুষ শাষিত ছিলনা; কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীরাও সমাজ শাষণ করতন। (অন্তত আমার তাই মনে হয়; তাছাড়াও মহাভারতকে আমার শুধু পুরুষ শাষিত একটা সমাজের কাব্য বলে মনে হয়নি কোনদিন।) পরবর্তীকালে সমাজব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন চলে আসার ফলে নারী শাষনের ব্যাপারটা উঠে যায়।
মহাভারতের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত এই বিষয়গুলো ধোঁয়ায় ঢাকা ও যথেষ্ট রহস্যজনক। মহাভারতের ঘটনাগুলোকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সেগুলোর বিভিন্ন অর্থ দাড় করানো যায়। সেরকমই একটা দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করে আমার যা মনে হয়েছে, ওপরে আমি সেটাই লিখলাম। আসলে মহাভারতের রচয়িতা ব্যাসদেব ঘটনাগুলোতে কিছুটা অতিপ্রাকৃত-আধিদৈবিক টাচ দিয়ে লিখে গেছেন আর এমনই তাঁর লেখার ভঙ্গি যে যখনই যেই ব্যাক্তিই ঘটনাগুলো আগ্রহ নিয়ে পড়বে, সেগুলো নিয়ে সেই ব্যাক্তি ভাবতে বাধ্য হয়ে যাবে। উপরের লেখাটায় আমার চিন্তা-ভাবনার আরো কয়েকটি অ্যাঙ্গেল লেখা যেত কিন্তু সেগুলোর সবটা লেখার সাহস করে উঠতে পারলামনা কারণ সেগুলো হয়ত মহাভারতের ইতিহাসটাকে কিছুটা হলেও বিকৃত করে দিয়ে বিতর্ক বাড়িয়ে তুলতে পারত। যতটুকু লিখলে সেই বিতর্ক এড়ানো যায় ততটুকুই লিখলাম। তাও এতটুকুতেও হয়ত কিছুটা হলেও তর্কাতর্কির হাওয়া উঠতেই পারে।
সব শেষে এটাই বলব যে, মহাভারত বা তার ঘটনাসমূহ বা তার চরিত্র বা মহাভারতের লেখক এদের কাউকেই অমর্যাদা করা কোনভাবেই আমার উদ্দেশ্য নয়।
© দেবাংশু গোস্বামী
No comments:
Post a Comment
Feel free to give your opinion in comment. Your comment will visible after approval.